পোস্টগুলি

জুন, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

ভারতের নায়াগ্রা: যেখানে শুট হয়েছিল ‘বাহুবলী’, সেই অথিরাপ্পিল্লি জলপ্রপাতের গল্প

ছবি
কিছু জায়গা আছে, যেগুলো প্রথম দেখাতেই মনে হয় যেন কোনও সিনেমার দৃশ্য। কেরলের অথিরাপ্পিল্লি জলপ্রপাত (Athirappilly Falls) ঠিক তেমনই একটি জায়গা। প্রায় ৮০ ফুট উচ্চতা থেকে আছড়ে পড়া জলরাশি, চারপাশে ঘন অরণ্য এবং প্রকৃতির গর্জন মিলিয়ে এটি ভারতের অন্যতম দর্শনীয় জলপ্রপাত। আর সেই কারণেই একে অনেকেই বলেন "The Niagara of India"। তবে ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে এই জলপ্রপাত যতটা পরিচিত, সিনেমাপ্রেমীদের কাছে তার পরিচয় আরও বিশেষ। কারণ ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় চলচ্চিত্র Baahubali-এর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য এই অঞ্চলে শুট করা হয়েছিল। কেরলের ত্রিশূর জেলার কাছে অবস্থিত অথিরাপ্পিল্লি জলপ্রপাত পশ্চিমঘাট পর্বতমালার বুক চিরে বয়ে চলা চালাকুডি নদীর অংশ। দূর থেকে জলপ্রপাতের গর্জন শোনা যায়, আর কাছে পৌঁছালে দেখা যায় বিশাল সাদা জলরাশি পাথরের গা বেয়ে নিচে নেমে আসছে। বর্ষাকালে এই সৌন্দর্য আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। চারদিকে শুধু সবুজ আর সবুজ। যেন প্রকৃতি নিজেই একটি বিশাল সিনেমার সেট তৈরি করেছে। যখন পরিচালক এস. এস. রাজামৌলি Baahubali নির্মাণ করছিলেন, তখন তিনি এমন কিছু লোকেশন খুঁজছিলে...

হারিয়ে যাওয়া প্রেমের শহর: যেখানে ‘জোধা আকবর’-এর ইতিহাস জীবন্ত হয়ে ওঠে

ছবি
ভারতের কিছু শহর আছে, যেগুলো মানচিত্রে যতটা ছোট, ইতিহাসে ততটাই বিশাল। মধ্যপ্রদেশের মান্ডু ঠিক তেমনই একটি জায়গা। পাহাড়ের মাথায় গড়ে ওঠা এই প্রাচীন শহরে পা রাখলেই মনে হয় যেন সময় কয়েকশো বছর পিছিয়ে গেছে। বহু সিনেমা নির্মাতার কাছে মান্ডু একটি স্বপ্নের লোকেশন। বিশাল প্রাসাদ, রহস্যময় ধ্বংসাবশেষ, প্রেমের কিংবদন্তি আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য Jodhaa Akbar সহ একাধিক ঐতিহাসিক চলচ্চিত্রের দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে এই অঞ্চলে। মান্ডুর সঙ্গে সবচেয়ে বেশি জড়িয়ে আছে রাজা বাজ বাহাদুর ও রূপমতীর প্রেমকাহিনি। আজও রূপমতী প্যাভিলিয়ন-এ দাঁড়ালে দূরে নর্মদা নদীর বিস্তীর্ণ দৃশ্য চোখে পড়ে। লোককথা বলে, রূপমতী প্রতিদিন এখান থেকেই নর্মদার দর্শন করতেন। এই রোম্যান্টিক পরিবেশই বহু চলচ্চিত্র নির্মাতাকে বারবার টেনে এনেছে মান্ডুতে। মান্ডুর সবচেয়ে বিখ্যাত স্থাপত্য জাহাজ মহল। দুই পাশে জলাশয় ঘেরা এই প্রাসাদকে দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন জলের উপর ভাসমান একটি বিশাল জাহাজ। সকাল কিংবা সূর্যাস্তের আলোয় জাহাজ মহল এতটাই সিনেম্যাটিক দেখায় যে ক্যামেরা নামাতে মন চায় না। রাজস্থানের দুর্গ বা আগ্রার তাজমহল নিয়ে ...

রাজকীয় প্রেমের সন্ধানে: ‘প্রেম রতন ধন পায়ো’-র শুটিং লোকেশন রানি কি ভাভ

ছবি
 কিছু সিনেমা শুধু গল্পের জন্য মনে থাকে, আর কিছু সিনেমা মনে থাকে তার রাজকীয় সৌন্দর্যের জন্য। সালমান খান ও সোনম কাপুর অভিনীত Prem Ratan Dhan Payo সেই দ্বিতীয় তালিকায় পড়ে। বিশাল প্রাসাদ, জমকালো পোশাক, রাজকীয় অনুষ্ঠান এবং চোখধাঁধানো লোকেশন ছবিটিকে এক রূপকথার আবহ দিয়েছিল। কিন্তু অনেকেই জানেন না, সেই রাজকীয় দৃশ্যগুলোর পেছনে ছিল ভারতের এক অসাধারণ ঐতিহাসিক স্থাপত্য, যার নাম রানি কি ভাভ। গুজরাটের পাটান শহরে অবস্থিত রানি কি ভাভ কোনও সাধারণ কুয়ো নয়। এটি একটি বহুস্তরবিশিষ্ট স্টেপওয়েল, যা একাদশ শতকে নির্মিত হয়েছিল। প্রথমবার সামনে দাঁড়ালে মনে হয় যেন মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা একটি প্রাসাদ আবিষ্কার করেছেন। ধাপে ধাপে নিচে নামার সঙ্গে সঙ্গে দেখা যায় অসংখ্য সূক্ষ্ম ভাস্কর্য, খোদাই এবং স্থাপত্যের বিস্ময়। Prem Ratan Dhan Payo-এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যের জন্য রানি কি ভাভের ঐতিহাসিক সৌন্দর্য ব্যবহার করা হয়েছিল। বিশাল পাথরের করিডর, সূক্ষ্ম কারুকাজ এবং সমৃদ্ধ স্থাপত্য ছবির রাজকীয় আবহকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছিল। পর্দায় যেটি এক কাল্পনিক রাজ্যের অংশ বলে মনে হয়, বা...

‘স্ত্রী’ সিনেমার সেই ভুতুড়ে শহর: বাস্তবের চন্দেরী কি সত্যিই এত রহস্যময়?

ছবি
রাত নামলেই কেউ বাইরে বেরোতে চায় না। গলির মোড়ে মোড়ে লেখা থাকে সতর্কবার্তা। আর শহর জুড়ে ঘুরে বেড়ায় এক অদৃশ্য আতঙ্ক। Stree এবং Stree 2 দেখার পর অনেকেরই মনে প্রশ্ন জেগেছে, এই ভুতুড়ে শহরটা কি সত্যিই বাস্তবে আছে? অবাক হলেও সত্যি, ছবির কাল্পনিক "চন্দেরী" আসলে মধ্যপ্রদেশের একটি বাস্তব ঐতিহাসিক শহর। চন্দেরী শতাব্দী প্রাচীন দুর্গ, সরু পাথরের রাস্তা এবং পুরনো স্থাপত্যের জন্য বিখ্যাত। শহরের অলিগলি দিয়ে হাঁটলে মনে হয় যেন কোনও রহস্য উপন্যাসের ভিতরে ঢুকে পড়েছেন। এই কারণেই পরিচালকরা Stree-এর জন্য চন্দেরীকে বেছে নিয়েছিলেন। শহরের প্রাকৃতিক পরিবেশই ছবির রহস্যময় আবহ তৈরি করতে বড় ভূমিকা রেখেছে। শহরের উপর মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে চন্দেরী দুর্গ। পাহাড়ের উপর অবস্থিত এই দুর্গ থেকে পুরো শহরটাকে দেখা যায়। সকালের কুয়াশা কিংবা সন্ধ্যার আলোয় দুর্গটি যেন আরও রহস্যময় হয়ে ওঠে। Stree-এর পরিবেশের সঙ্গে এর অদ্ভুত মিল খুঁজে পাওয়া যায়। চন্দেরী শুধু সিনেমার জন্য বিখ্যাত নয়। এখানকার চন্দেরী শাড়ি সারা দেশে বিখ্যাত। সূক্ষ্ম বুনন আর ঐতিহ্যের জন্য এই শাড়ির আলাদা পরিচিত...

কাকাবাবুর পথে হাম্পি: ‘বিজয়নগরের হীরে’-র শুটিং লোকেশনের সন্ধানে

ছবি
কিছু সিনেমা শুধু গল্প বলে না, তারা আমাদের নতুন নতুন জায়গার সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দেয়। ২০২৬ সালের বাংলা ছবি বিজয়নগরের হীরে ঠিক তেমনই একটি সিনেমা। কাকাবাবু ও সন্তুর নতুন অভিযানের হাত ধরে দর্শক পৌঁছে যায় ভারতের এক বিস্ময়কর ঐতিহাসিক শহরে, যার নাম হাম্পি। ছবিটি দেখার সময় বারবার মনে হতে পারে, এত বিশাল পাথরের রাজ্য, প্রাচীন মন্দির আর ধ্বংসাবশেষ কি সত্যিই বাস্তবে আছে? উত্তর হল, হ্যাঁ। কর্ণাটকের হাম্পি শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়, এটি একসময়ের শক্তিশালী বিজয়নগর সাম্রাজ্যের রাজধানী।হাম্পিতে পৌঁছানোর পর প্রথমেই চোখে পড়ে অসংখ্য বিশাল পাথরের স্তূপ। মনে হয় যেন প্রকৃতি নিজেই এক শিল্পকর্ম তৈরি করেছে। শত শত বছর আগে এই অঞ্চল ছিল দক্ষিণ ভারতের অন্যতম সমৃদ্ধ নগরী। আজ সেই সাম্রাজ্যের ধ্বংসাবশেষই পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র। বিজয়নগরের হীরে ছবির নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে এই ইতিহাসের ছাপ। ছবির রহস্য, গুপ্তধন আর হারিয়ে যাওয়া অতীতের গল্পের জন্য হাম্পির চেয়ে উপযুক্ত লোকেশন খুঁজে পাওয়া সত্যিই কঠিন। হাম্পির সবচেয়ে বিখ্যাত আকর্ষণ হল ভিট্টল মন্দিরের পাথরের রথ। ভারতের নতুন ৫০ টাকা...

ভারতের বহুল প্রচলিত হরর ফিল্ম শ্যুট হয়েছিল এইখানে!!!

ছবি
হিন্দি হরর সিনেমার ইতিহাসে Tumbbad একটি বিশেষ নাম। ২০১৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবিটি শুধু তার গল্প বা ভৌতিক আবহের জন্য নয়, বরং অসাধারণ লোকেশন ও সিনেমাটোগ্রাফির জন্যও দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। সিনেমাটি দেখার পর অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছিল, "তুম্বাড কি সত্যিই একটি বাস্তব জায়গা?" উত্তর হল, হ্যাঁ। তুম্বাড মহারাষ্ট্রের সাতারা জেলার একটি বাস্তব গ্রাম। পশ্চিমঘাট পর্বতমালার কোলে অবস্থিত এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশই ছবির রহস্যময় আবহ তৈরি করতে বড় ভূমিকা পালন করেছে। Tumbbad -এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল এর অবিরাম বৃষ্টির আবহ। সিনেমার প্রায় প্রতিটি দৃশ্যেই দেখা যায় মেঘলা আকাশ, কাদা ভরা রাস্তা এবং বৃষ্টিতে ভিজে থাকা পুরনো বাড়ি। পরিচালকরা এই পরিবেশ তৈরি করার জন্য মহারাষ্ট্রের সাতারা ও তার আশেপাশের অঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে শুটিং করেছিলেন। বর্ষাকালে সাতারার পাহাড়ি গ্রামগুলো এমনিতেই কুয়াশা ও বৃষ্টিতে ঢাকা থাকে। সেই প্রাকৃতিক পরিবেশকে কাজে লাগিয়েই নির্মিত হয়েছিল ছবির ভৌতিক জগৎ। ফলে দর্শকরা পর্দায় যে দৃশ্য দেখেছেন, তার অনেকটাই ছিল প্রকৃতির নিজের সৃষ্টি।বিশেষ ক...

যেখানে লুকিয়ে ছিল গুপ্তধনের রহস্য: ‘দুর্গেশগড়ের গুপ্তধন’-এর বাস্তব লোকেশনে অভিযান

ছবি
 কিছু সিনেমা শুধু গল্পের জন্য মনে থাকে না, মনে থাকে তার লোকেশনও। দুর্গেশগড়ের গুপ্তধন ঠিক তেমনই একটি ছবি। পর্দায় গুপ্তধনের সন্ধান, রহস্যময় রাজবাড়ি আর জঙ্গলঘেরা পথ দেখে অনেক দর্শকেরই ইচ্ছে হয়েছে সেই জায়গাগুলো একবার নিজের চোখে দেখার। যদি আপনিও সেই দলে পড়েন, তাহলে চলুন আজ ঘুরে আসি পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গলমহলের বুকে, যেখানে ইতিহাস, প্রকৃতি আর সিনেমা মিশে তৈরি করেছে এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা। ছবির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য শুট করা হয়েছে ঝাড়গ্রাম ও তার আশেপাশের অঞ্চলে। ঘন শাল-পিয়াল জঙ্গল, নির্জন রাস্তা এবং পুরনো রাজবাড়ির পরিবেশ ছবির রহস্যকে আরও জীবন্ত করে তুলেছে।পর্দায় যেসব দৃশ্য দেখে মনে হয়েছিল যেন কোনও অজানা গুপ্তধনের পথে এগিয়ে চলেছেন সোনাদা, আবির আর জিনিয়া, বাস্তবে সেই পথগুলো আজও পর্যটকদের কাছে সমান আকর্ষণীয়। জঙ্গলমহলের অন্যতম আকর্ষণ ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি। রাজকীয় স্থাপত্য, বিশাল প্রাঙ্গণ এবং শতাব্দীপ্রাচীন ইতিহাস এই স্থানকে সিনেমার জন্য আদর্শ করে তুলেছে।রাজবাড়ির সামনে দাঁড়ালে মনে হবে যেন যে কোনও মুহূর্তে গুপ্তধনের সন্ধানে কেউ বেরিয়ে পড়বে। ছবির আবহকে বাস্...

রাজস্থানের এই প্রাসাদে ঢুকলেই মনে হবে আপনি ‘ভুল ভুলাইয়া’র সেটে দাঁড়িয়ে আছেন!

ছবি
 বাংলা সিনেমা হোক বা বলিউড, কিছু লোকেশন আছে যেগুলো পর্দার বাইরে গিয়েও দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে নেয়। Bhool Bhulaiyaa কিংবা আসন্ন Bhoot Bangla ছবির ট্রেলার দেখার সময় যদি আপনার মনে প্রশ্ন জেগে থাকে, "এই বিশাল রহস্যময় প্রাসাদটা কোথায়?", তাহলে আজকের সফর ঠিক সেই জায়গাতেই। রাজস্থানের গোলাপি শহর জয়পুরের কাছেই অবস্থিত চোমু প্যালেস (Chomu Palace)। শতাব্দীপ্রাচীন এই রাজপ্রাসাদই বলিউডের কাছে বারবার ফিরে আসা এক প্রিয় শুটিং লোকেশন।প্রাসাদের বিশাল করিডোর, পুরনো দরজা, রাজকীয় অন্দরমহল আর রহস্যময় পরিবেশ একেবারে ভূতের গল্পের জন্য তৈরি বলে মনে হয়। Bhool Bhulaiyaa ছবির ভৌতিক আবহ তৈরির জন্য এমন রাজকীয় কিন্তু গা ছমছমে পরিবেশ ছিল একেবারে উপযুক্ত। চোমু প্যালেসে Bhoot bangla সিনেমার দৃশ্য সাম্প্রতিক Bhoot Bangla ছবির শুটিংয়ের জন্যও এই ধরনের ঐতিহাসিক প্রাসাদকে বেছে নেওয়া হয়েছে, কারণ এগুলো কেবল সেট নয়, নিজেরাই যেন একেকটা চরিত্র।প্রায় ৩০০ বছরেরও বেশি পুরনো এই প্রাসাদ একসময় রাজপুত শাসকদের বাসস্থান ছিল। রাজকীয় দরবার, যুদ্ধের স্মৃতি আর অভিজাত স্থাপত্য আজও তার ...

শিবপ্রসাদ-আবীরের সেই রুদ্ধশ্বাস তাড়া করার দৃশ্য! জানুন ‘বহুরূপী’ সিনেমার আসল লোকেশন

ছবি
উইন্ডোজ প্রোডাকশনসের ‘বহুরূপী’ সিনেমাটি যারা দেখেছেন, তারা নিশ্চয়ই সেই টানটান উত্তেজনা আর মাটির কাছাকাছি গল্পে মজে আছেন। ব্যাংক ডাকাতি থেকে শুরু করে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে বহুরূপী সেজে পালিয়ে বেড়ানো—পুরো সিনেমা জুড়েই ছিল এক রুদ্ধশ্বাস অনুভূতি। আর এই লড়াইকে আরও বেশি জীবন্ত করে তুলেছিল বীরভূমের চমৎকার সব লোকেশন। বিশেষ করে সিনেমার সেই তাড়া করার দৃশ্যগুলো এবং বাঁকুড়া-বীরভূমের সংযোগকারী যে গভীর জঙ্গল দেখানো হয়েছে, তার আসল ঠিকানা হলো বোলপুরের কাছেই অবস্থিত ইলামবাজারের চৌপাহাড়ির জঙ্গল। সাধারণত বীরভূম বললেই আমাদের মাথায় শান্তিনিকেতন বা কোপাই নদীর কথা আসে। কিন্তু ইলামবাজারের এই শাল, পিয়াল আর মহুল গাছে ঘেরা জঙ্গলটির মধ্যে রয়েছে এক আদিম ও রহস্যময় পরিবেশ। পরিচালক নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এই চেনা ল্যান্ডস্কেপকেই তাঁদের সিনেমার থ্রিল ও অ্যাকশনের জন্য বেছে নিয়েছিলেন। সিনেমার খাতিরে যখন বিক্রম (শিবপ্রসাদ) পুলিশ সুমন্তের (আবীর) হাত থেকে বাঁচতে লাল মাটির রাস্তা দিয়ে বাইক ছুটিয়ে জঙ্গলের গভীরে হারিয়ে যায়, সেই ফ্রেমগুলো ইলামবাজারের এই চত্বরেই শুট করা হয়েছিল। এখানকার শান্ত...

সত্যজিৎ রায়ের সোনার কেল্লার রহস্য লুকিয়ে আছে বাংলাতেই!

ছবি
 সত্যজিৎ রায়ের মাস্টারপিস 'সোনার কেল্লা' বললেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে রাজস্থানের জয়সলমীরের সোনালী কেল্লা আর উটের দল। কিন্তু ফেলুদা ভক্তদের জন্য একটা মস্ত বড় চমক লুকিয়ে আছে আমাদের বাংলাতেই!   সিনেমার শুরুর দিকে ছোট্ট মুকুল যখন তার জাতিস্মর হওয়ার গল্প বলছিল এবং জটায়ুর সাথে ফেলুদার প্রথম আলাপ হচ্ছিল, সেই দৃশ্যগুলোর ব্যাকগ্রাউন্ডে যে দুর্গ বা রাজবাড়ির ভেতরের অংশ দেখা গিয়েছিল, তা কিন্তু রাজস্থানে নয়। সেই আইকনিক দৃশ্যগুলোর শুট হয়েছিল বীরভূমের বোলপুরের কাছে সুরুল রাজবাড়ি (সরকার বাড়ি) এবং দুর্গাপুর-বাঁকুড়া বর্ডারের মুকুন্দপুর রাজবাড়িতে! সিনেমার খাতিরে রাজস্থানি কেল্লার ভেতরের দৃশ্য হিসেবে বাংলার এই ঐতিহ্যবাহী জমিদার বাড়িকে ব্যবহার করেছিলেন খোদ সত্যজিৎ রায়।   (Image Source: Times Of India) ৩০০ বছরের পুরনো ইতিহাস ও সত্যজিতের জহুরির চোখআজ আমরা যে সুরুল রাজবাড়িকে কেবলই বাংলার ইতিহাস হিসেবে দেখি, তার পেছনে জড়িয়ে আছে প্রায় ৩০০ বছরের এক গৌরবগাথা। অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে (১৭৫০ নাগাদ) ভরতচন্দ্র সরকার এই রাজবাড়ির পত্তন করেন। পরবর্তীতে তাঁর ছেলে শ্রীনিবাস সরকারের আমল...