সত্যজিৎ রায়ের সোনার কেল্লার রহস্য লুকিয়ে আছে বাংলাতেই!

 সত্যজিৎ রায়ের মাস্টারপিস 'সোনার কেল্লা' বললেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে রাজস্থানের জয়সলমীরের সোনালী কেল্লা আর উটের দল। কিন্তু ফেলুদা ভক্তদের জন্য একটা মস্ত বড় চমক লুকিয়ে আছে আমাদের বাংলাতেই!  

সিনেমার শুরুর দিকে ছোট্ট মুকুল যখন তার জাতিস্মর হওয়ার গল্প বলছিল এবং জটায়ুর সাথে ফেলুদার প্রথম আলাপ হচ্ছিল, সেই দৃশ্যগুলোর ব্যাকগ্রাউন্ডে যে দুর্গ বা রাজবাড়ির ভেতরের অংশ দেখা গিয়েছিল, তা কিন্তু রাজস্থানে নয়। সেই আইকনিক দৃশ্যগুলোর শুট হয়েছিল বীরভূমের বোলপুরের কাছে সুরুল রাজবাড়ি (সরকার বাড়ি) এবং দুর্গাপুর-বাঁকুড়া বর্ডারের মুকুন্দপুর রাজবাড়িতে! সিনেমার খাতিরে রাজস্থানি কেল্লার ভেতরের দৃশ্য হিসেবে বাংলার এই ঐতিহ্যবাহী জমিদার বাড়িকে ব্যবহার করেছিলেন খোদ সত্যজিৎ রায়।  

(Image Source: Times Of India)

৩০০ বছরের পুরনো ইতিহাস ও সত্যজিতের জহুরির চোখআজ আমরা যে সুরুল রাজবাড়িকে কেবলই বাংলার ইতিহাস হিসেবে দেখি, তার পেছনে জড়িয়ে আছে প্রায় ৩০০ বছরের এক গৌরবগাথা। অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে (১৭৫০ নাগাদ) ভরতচন্দ্র সরকার এই রাজবাড়ির পত্তন করেন। পরবর্তীতে তাঁর ছেলে শ্রীনিবাস সরকারের আমলে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাথে নীল ও কাপড়ের ব্যবসা করে এই পরিবারের সমৃদ্ধি ঘটে এবং এই বিশাল রাজপ্রাসাদ রূপ নেয়।  

সুরুল রাজবাড়ির সেই বিশাল খিলান, ঠাকুরদালান আর প্রাচীন থামগুলোর সামনে দাঁড়ালে আজও সেই ভিন্টেজ সিনেমাটিক নস্টালজিয়া টের পাওয়া যায়। এই বাড়ির স্থাপত্যে রয়েছে বাঙালিয়ানা আর ভিন্টেজ ইউরোপীয় শৈলীর এক অদ্ভুত মেলবন্ধন। আর এখানেই ছিল সত্যজিৎ রায়ের জহুরির চোখ! রাজস্থানের কেল্লার ভেতরের রহস্যময় আবহ তৈরি করতে বাংলার এই লাল ইটের খিলান আর ঠাকুরদালানকেই তাঁর সবচেয়ে পারফেক্ট মনে হয়েছিল। 


বোলপুর-শান্তিনিকেতন স্টেশন থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরেই অবস্থিত এই সুরুল রাজবাড়ি। টোটো বা গাড়ি ভাড়া করে সহজেই ঘুরে আসতে পারেন ফেলুদার এই গোপন আস্তানা থেকে। মাত্র দশ টাকার টিকিট এর বিনিময়ে আমি প্রবেশ করতে পারবেন এইখানে। খুব শান্ত পরিবেশ শান্তিনিকেতন ঘুরতে গেলে শেষে এই রাজবাড়ীতে গিয়ে একটু জিরোলে মন্দ হবে না তারপর তো আছে এস্থেটিক ছবি তোলার জায়গা। 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

শিবপ্রসাদ-আবীরের সেই রুদ্ধশ্বাস তাড়া করার দৃশ্য! জানুন ‘বহুরূপী’ সিনেমার আসল লোকেশন