শিবপ্রসাদ-আবীরের সেই রুদ্ধশ্বাস তাড়া করার দৃশ্য! জানুন ‘বহুরূপী’ সিনেমার আসল লোকেশন
উইন্ডোজ প্রোডাকশনসের ‘বহুরূপী’ সিনেমাটি যারা দেখেছেন, তারা নিশ্চয়ই সেই টানটান উত্তেজনা আর মাটির কাছাকাছি গল্পে মজে আছেন। ব্যাংক ডাকাতি থেকে শুরু করে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে বহুরূপী সেজে পালিয়ে বেড়ানো—পুরো সিনেমা জুড়েই ছিল এক রুদ্ধশ্বাস অনুভূতি। আর এই লড়াইকে আরও বেশি জীবন্ত করে তুলেছিল বীরভূমের চমৎকার সব লোকেশন। বিশেষ করে সিনেমার সেই তাড়া করার দৃশ্যগুলো এবং বাঁকুড়া-বীরভূমের সংযোগকারী যে গভীর জঙ্গল দেখানো হয়েছে, তার আসল ঠিকানা হলো বোলপুরের কাছেই অবস্থিত ইলামবাজারের চৌপাহাড়ির জঙ্গল।
সাধারণত বীরভূম বললেই আমাদের মাথায় শান্তিনিকেতন বা কোপাই নদীর কথা আসে। কিন্তু ইলামবাজারের এই শাল, পিয়াল আর মহুল গাছে ঘেরা জঙ্গলটির মধ্যে রয়েছে এক আদিম ও রহস্যময় পরিবেশ। পরিচালক নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এই চেনা ল্যান্ডস্কেপকেই তাঁদের সিনেমার থ্রিল ও অ্যাকশনের জন্য বেছে নিয়েছিলেন।
সিনেমার খাতিরে যখন বিক্রম (শিবপ্রসাদ) পুলিশ সুমন্তের (আবীর) হাত থেকে বাঁচতে লাল মাটির রাস্তা দিয়ে বাইক ছুটিয়ে জঙ্গলের গভীরে হারিয়ে যায়, সেই ফ্রেমগুলো ইলামবাজারের এই চত্বরেই শুট করা হয়েছিল। এখানকার শান্ত, নিস্তব্ধ পরিবেশ আর মাইলের পর মাইল চলে যাওয়া সোজা শাল গাছের সারি ক্যামেরার ফ্রেমে এক দারুণ ‘ক্লস্ট্রোফোবিক থ্রিল’ তৈরি করে, যা দর্শককে সিটের সামনে বসিয়ে রাখতে বাধ্য করে।
বোলপুর-শান্তিনিকেতন স্টেশন থেকে ইলামবাজারের দূরত্ব মাত্র ১৬ থেকে ১৮ কিলোমিটার। স্টেশন থেকে খুব সহজেই গাড়ি, বাস বা টোটো রিজার্ভ করে ইলামবাজারের এই বিখ্যাত চৌপাহাড়ির জঙ্গল এবং তার চারপাশের লাল মাটির রাস্তায় ঘুরে আসা যায়।
তাহলে আর দেরি কেন? উইকএন্ডে ব্যাগ গুছিয়ে ড্রাইভ করতে করতে চলে যান ইলামবাজারের জঙ্গলে আর রিলস বা ছবিতে ফুটিয়ে তুলুন আপনার নিজস্ব ‘বহুরূপী’ মোমেন্ট! সিনেমাটিতে শিবপ্রসাদ আর আবীরের এই লুকোচুরি খেলা আপনার কেমন লেগেছিল, কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না কিন্তু!
💝🎀
উত্তরমুছুন