রাজস্থানের এই প্রাসাদে ঢুকলেই মনে হবে আপনি ‘ভুল ভুলাইয়া’র সেটে দাঁড়িয়ে আছেন!

 বাংলা সিনেমা হোক বা বলিউড, কিছু লোকেশন আছে যেগুলো পর্দার বাইরে গিয়েও দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে নেয়। Bhool Bhulaiyaa কিংবা আসন্ন Bhoot Bangla ছবির ট্রেলার দেখার সময় যদি আপনার মনে প্রশ্ন জেগে থাকে, "এই বিশাল রহস্যময় প্রাসাদটা কোথায়?", তাহলে আজকের সফর ঠিক সেই জায়গাতেই। রাজস্থানের গোলাপি শহর জয়পুরের কাছেই অবস্থিত চোমু প্যালেস (Chomu Palace)।

শতাব্দীপ্রাচীন এই রাজপ্রাসাদই বলিউডের কাছে বারবার ফিরে আসা এক প্রিয় শুটিং লোকেশন।প্রাসাদের বিশাল করিডোর, পুরনো দরজা, রাজকীয় অন্দরমহল আর রহস্যময় পরিবেশ একেবারে ভূতের গল্পের জন্য তৈরি বলে মনে হয়। Bhool Bhulaiyaa ছবির ভৌতিক আবহ তৈরির জন্য এমন রাজকীয় কিন্তু গা ছমছমে পরিবেশ ছিল একেবারে উপযুক্ত।

চোমু প্যালেসে Bhoot bangla সিনেমার দৃশ্য

সাম্প্রতিক Bhoot Bangla ছবির শুটিংয়ের জন্যও এই ধরনের ঐতিহাসিক প্রাসাদকে বেছে নেওয়া হয়েছে, কারণ এগুলো কেবল সেট নয়, নিজেরাই যেন একেকটা চরিত্র।প্রায় ৩০০ বছরেরও বেশি পুরনো এই প্রাসাদ একসময় রাজপুত শাসকদের বাসস্থান ছিল। রাজকীয় দরবার, যুদ্ধের স্মৃতি আর অভিজাত স্থাপত্য আজও তার দেয়ালে লুকিয়ে আছে। বর্তমানে এটি একটি হেরিটেজ হোটেল হিসেবে পরিচালিত হয়, ফলে পর্যটকেরা এখানে শুধু ঘুরতেই নয়, রাতও কাটাতে পারেন।চোমু প্যালেস শুধু একটি ঐতিহাসিক রাজপ্রাসাদ নয়, এটি যেন বলিউডের হরর-কমেডি জগতের এক নীরব নায়ক।

চোমু প্যালেস এ Bhool bhulayia সিনেমার দৃশ্য 

২০০৭ সালে পরিচালক প্রিয়দর্শন তাঁর কাল্ট ক্লাসিক চলচ্চিত্র Bhool Bhulaiyaa-এর জন্য এই প্রাসাদকে বেছে নিয়েছিলেন। ছবিতে যে বিশাল হাভেলি, রহস্যময় করিডোর, বন্ধ ঘর আর মঞ্জুলিকার কিংবদন্তি দেখানো হয়েছিল, তার বড় অংশের শুটিং হয়েছিল এই চোমু প্যালেসে। প্রাসাদের পুরনো দরজা, অন্ধকার অলিন্দ এবং রাজকীয় স্থাপত্য ছবির ভৌতিক আবহকে আরও বাস্তব করে তুলেছিল।

প্রায় দুই দশক পরে, ২০২৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত Bhooth Bangla-তেও আবার ফিরে আসে এই একই প্রাসাদ। পরিচালক প্রিয়দর্শন এবং অভিনেতা Akshay Kumar-এর পুনর্মিলনের এই ছবির গুরুত্বপূর্ণ অংশের শুটিংও চোমু প্যালেসে হয়েছে। ছবির ট্রেলার প্রকাশের পর অনেক দর্শকই লক্ষ্য করেন যে লোকেশনটির মধ্যে Bhool Bhulaiyaa-এর পরিচিত রহস্যময় আবহ এখনও রয়ে গেছে।

মজার বিষয় হলো, বলিউড ভক্তদের কাছে চোমু প্যালেস এখন শুধুমাত্র একটি পর্যটনকেন্দ্র নয়, বরং দুটি জনপ্রিয় হরর-কমেডি ছবির মিলনস্থল। যারা এখানে বেড়াতে আসেন, তারা প্রাসাদের করিডোরে দাঁড়িয়ে মঞ্জুলিকার দৃশ্য কিংবা Bhooth Bangla-র ভৌতিক মুহূর্তগুলোর কথা মনে করার চেষ্টা করেন।

তাই যদি আপনি সিনেমাপ্রেমী হন, তাহলে চোমু প্যালেস আপনার জন্য শুধু একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা নয়, বরং বলিউডের জীবন্ত শুটিং সেট। এখানে এসে আপনি একই সঙ্গে রাজস্থানের রাজকীয় ইতিহাস এবং ভারতীয় সিনেমার এক বিশেষ অধ্যায়কে অনুভব করতে পারবেন।জয়পুর শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত চোমু প্যালেস। বিমানবন্দর বা রেলস্টেশন থেকে ট্যাক্সি ভাড়া করলেই সহজে পৌঁছে যাওয়া যায়।

মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সত্যজিৎ রায়ের সোনার কেল্লার রহস্য লুকিয়ে আছে বাংলাতেই!

শিবপ্রসাদ-আবীরের সেই রুদ্ধশ্বাস তাড়া করার দৃশ্য! জানুন ‘বহুরূপী’ সিনেমার আসল লোকেশন