‘স্ত্রী’ সিনেমার সেই ভুতুড়ে শহর: বাস্তবের চন্দেরী কি সত্যিই এত রহস্যময়?

রাত নামলেই কেউ বাইরে বেরোতে চায় না। গলির মোড়ে মোড়ে লেখা থাকে সতর্কবার্তা। আর শহর জুড়ে ঘুরে বেড়ায় এক অদৃশ্য আতঙ্ক। Stree এবং Stree 2 দেখার পর অনেকেরই মনে প্রশ্ন জেগেছে, এই ভুতুড়ে শহরটা কি সত্যিই বাস্তবে আছে? অবাক হলেও সত্যি, ছবির কাল্পনিক "চন্দেরী" আসলে মধ্যপ্রদেশের একটি বাস্তব ঐতিহাসিক শহর। চন্দেরী শতাব্দী প্রাচীন দুর্গ, সরু পাথরের রাস্তা এবং পুরনো স্থাপত্যের জন্য বিখ্যাত। শহরের অলিগলি দিয়ে হাঁটলে মনে হয় যেন কোনও রহস্য উপন্যাসের ভিতরে ঢুকে পড়েছেন।


এই কারণেই পরিচালকরা Stree-এর জন্য চন্দেরীকে বেছে নিয়েছিলেন। শহরের প্রাকৃতিক পরিবেশই ছবির রহস্যময় আবহ তৈরি করতে বড় ভূমিকা রেখেছে। শহরের উপর মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে চন্দেরী দুর্গ। পাহাড়ের উপর অবস্থিত এই দুর্গ থেকে পুরো শহরটাকে দেখা যায়। সকালের কুয়াশা কিংবা সন্ধ্যার আলোয় দুর্গটি যেন আরও রহস্যময় হয়ে ওঠে। Stree-এর পরিবেশের সঙ্গে এর অদ্ভুত মিল খুঁজে পাওয়া যায়।


চন্দেরী শুধু সিনেমার জন্য বিখ্যাত নয়। এখানকার চন্দেরী শাড়ি সারা দেশে বিখ্যাত। সূক্ষ্ম বুনন আর ঐতিহ্যের জন্য এই শাড়ির আলাদা পরিচিতি রয়েছে। তাই এখানে এলে একদিকে যেমন সিনেমার লোকেশন ঘোরা যাবে, অন্যদিকে স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যও জানা যাবে। ভারতে বহু সুন্দর শহর আছে, কিন্তু খুব কম জায়গাই আছে যেখানে ইতিহাস, লোককথা এবং সিনেমা এত সুন্দরভাবে মিশে গেছে। Stree ছবির ভুতুড়ে আবহ হয়তো কাল্পনিক, কিন্তু চন্দেরীর পুরনো গলি, প্রাচীন স্থাপত্য আর নিস্তব্ধ রাতের পরিবেশ সত্যিই এক অদ্ভুত অনুভূতি তৈরি করে।


যদি কখনও চন্দেরীতে যান, তাহলে হয়তো "ও স্ত্রী, কাল আনা" লেখা কোনও দেয়াল দেখতে পাবেন না। কিন্তু শহরের অলিগলি ঘুরে বেড়ানোর সময় একবার হলেও মনে হবে, এই শহরের প্রতিটি ইটের মধ্যে লুকিয়ে আছে কোনও না কোনও গল্প। আর সেই গল্পই চন্দেরীকে শুধু একটি শুটিং লোকেশন নয়, বরং একটি অসাধারণ ভ্রমণ গন্তব্যে পরিণত করেছে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সত্যজিৎ রায়ের সোনার কেল্লার রহস্য লুকিয়ে আছে বাংলাতেই!

শিবপ্রসাদ-আবীরের সেই রুদ্ধশ্বাস তাড়া করার দৃশ্য! জানুন ‘বহুরূপী’ সিনেমার আসল লোকেশন

যেখানে লুকিয়ে ছিল গুপ্তধনের রহস্য: ‘দুর্গেশগড়ের গুপ্তধন’-এর বাস্তব লোকেশনে অভিযান