হারিয়ে যাওয়া প্রেমের শহর: যেখানে ‘জোধা আকবর’-এর ইতিহাস জীবন্ত হয়ে ওঠে

ভারতের কিছু শহর আছে, যেগুলো মানচিত্রে যতটা ছোট, ইতিহাসে ততটাই বিশাল। মধ্যপ্রদেশের মান্ডু ঠিক তেমনই একটি জায়গা। পাহাড়ের মাথায় গড়ে ওঠা এই প্রাচীন শহরে পা রাখলেই মনে হয় যেন সময় কয়েকশো বছর পিছিয়ে গেছে।


বহু সিনেমা নির্মাতার কাছে মান্ডু একটি স্বপ্নের লোকেশন। বিশাল প্রাসাদ, রহস্যময় ধ্বংসাবশেষ, প্রেমের কিংবদন্তি আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য Jodhaa Akbar সহ একাধিক ঐতিহাসিক চলচ্চিত্রের দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে এই অঞ্চলে।

মান্ডুর সঙ্গে সবচেয়ে বেশি জড়িয়ে আছে রাজা বাজ বাহাদুর ও রূপমতীর প্রেমকাহিনি। আজও রূপমতী প্যাভিলিয়ন-এ দাঁড়ালে দূরে নর্মদা নদীর বিস্তীর্ণ দৃশ্য চোখে পড়ে। লোককথা বলে, রূপমতী প্রতিদিন এখান থেকেই নর্মদার দর্শন করতেন। এই রোম্যান্টিক পরিবেশই বহু চলচ্চিত্র নির্মাতাকে বারবার টেনে এনেছে মান্ডুতে।

মান্ডুর সবচেয়ে বিখ্যাত স্থাপত্য জাহাজ মহল। দুই পাশে জলাশয় ঘেরা এই প্রাসাদকে দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন জলের উপর ভাসমান একটি বিশাল জাহাজ। সকাল কিংবা সূর্যাস্তের আলোয় জাহাজ মহল এতটাই সিনেম্যাটিক দেখায় যে ক্যামেরা নামাতে মন চায় না। রাজস্থানের দুর্গ বা আগ্রার তাজমহল নিয়ে সবাই জানে। কিন্তু মান্ডু এখনও অনেকটাই পর্যটকদের ভিড়ের বাইরে। ফলে এখানে আপনি ইতিহাসকে আরও কাছ থেকে অনুভব করতে পারবেন।


যদি সিনেমার লোকেশন ঘুরতে ভালোবাসেন, ইতিহাসে আগ্রহ থাকে অথবা শুধু একটি অন্যরকম গন্তব্য খুঁজে থাকেন, তাহলে মান্ডু আপনার জন্য আদর্শ। হয়তো এখানে কোনও শুটিং চলছে না, কিন্তু মান্ডুর প্রতিটি প্রাসাদ, প্রতিটি ধ্বংসাবশেষ আজও যেন একটি অসমাপ্ত সিনেমার দৃশ্য হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সত্যজিৎ রায়ের সোনার কেল্লার রহস্য লুকিয়ে আছে বাংলাতেই!

শিবপ্রসাদ-আবীরের সেই রুদ্ধশ্বাস তাড়া করার দৃশ্য! জানুন ‘বহুরূপী’ সিনেমার আসল লোকেশন

যেখানে লুকিয়ে ছিল গুপ্তধনের রহস্য: ‘দুর্গেশগড়ের গুপ্তধন’-এর বাস্তব লোকেশনে অভিযান