ভারতের বহুল প্রচলিত হরর ফিল্ম শ্যুট হয়েছিল এইখানে!!!

হিন্দি হরর সিনেমার ইতিহাসে Tumbbad একটি বিশেষ নাম। ২০১৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবিটি শুধু তার গল্প বা ভৌতিক আবহের জন্য নয়, বরং অসাধারণ লোকেশন ও সিনেমাটোগ্রাফির জন্যও দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। সিনেমাটি দেখার পর অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছিল, "তুম্বাড কি সত্যিই একটি বাস্তব জায়গা?"

উত্তর হল, হ্যাঁ। তুম্বাড মহারাষ্ট্রের সাতারা জেলার একটি বাস্তব গ্রাম। পশ্চিমঘাট পর্বতমালার কোলে অবস্থিত এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশই ছবির রহস্যময় আবহ তৈরি করতে বড় ভূমিকা পালন করেছে।


Tumbbad-এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল এর অবিরাম বৃষ্টির আবহ। সিনেমার প্রায় প্রতিটি দৃশ্যেই দেখা যায় মেঘলা আকাশ, কাদা ভরা রাস্তা এবং বৃষ্টিতে ভিজে থাকা পুরনো বাড়ি। পরিচালকরা এই পরিবেশ তৈরি করার জন্য মহারাষ্ট্রের সাতারা ও তার আশেপাশের অঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে শুটিং করেছিলেন।


বর্ষাকালে সাতারার পাহাড়ি গ্রামগুলো এমনিতেই কুয়াশা ও বৃষ্টিতে ঢাকা থাকে। সেই প্রাকৃতিক পরিবেশকে কাজে লাগিয়েই নির্মিত হয়েছিল ছবির ভৌতিক জগৎ। ফলে দর্শকরা পর্দায় যে দৃশ্য দেখেছেন, তার অনেকটাই ছিল প্রকৃতির নিজের সৃষ্টি।বিশেষ করে বর্ষাকালে পুরো এলাকা যেন সবুজ চাদরে ঢেকে যায়। যারা ফটোগ্রাফি, অফবিট ট্রাভেল বা সিনেমা-ভিত্তিক পর্যটন পছন্দ করেন তাদের জন্য এটি হতে পারে এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

(Scenes From Tumbbad)

তুম্বাডে গিয়ে হয়তো আপনি হাস্তার দেবতার গুপ্তধন খুঁজে পাবেন না, কিন্তু খুঁজে পাবেন ভারতের অন্যতম সেরা হরর সিনেমার জন্মস্থানের আবহ। এখানকার নির্জন রাস্তা, কুয়াশাচ্ছন্ন পাহাড় এবং বর্ষার প্রকৃতি আপনাকে বারবার মনে করিয়ে দেবে সেই সিনেমার কথা, যেখানে লোভ, অভিশাপ এবং রহস্য একসঙ্গে মিশে গিয়েছিল। সিনেমার পর্দায় দেখা তুম্বাড হয়তো একটি কাল্পনিক জগৎ, কিন্তু তার পেছনের বাস্তব লোকেশন আজও দাঁড়িয়ে আছে পশ্চিমঘাটের বুকে। আর সেই কারণেই তুম্বাড শুধু একটি সিনেমা নয়, এটি এক অসাধারণ ভ্রমণগল্পও।

মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সত্যজিৎ রায়ের সোনার কেল্লার রহস্য লুকিয়ে আছে বাংলাতেই!

শিবপ্রসাদ-আবীরের সেই রুদ্ধশ্বাস তাড়া করার দৃশ্য! জানুন ‘বহুরূপী’ সিনেমার আসল লোকেশন

যেখানে লুকিয়ে ছিল গুপ্তধনের রহস্য: ‘দুর্গেশগড়ের গুপ্তধন’-এর বাস্তব লোকেশনে অভিযান