যেখানে লুকিয়ে ছিল গুপ্তধনের রহস্য: ‘দুর্গেশগড়ের গুপ্তধন’-এর বাস্তব লোকেশনে অভিযান

 কিছু সিনেমা শুধু গল্পের জন্য মনে থাকে না, মনে থাকে তার লোকেশনও। দুর্গেশগড়ের গুপ্তধন ঠিক তেমনই একটি ছবি। পর্দায় গুপ্তধনের সন্ধান, রহস্যময় রাজবাড়ি আর জঙ্গলঘেরা পথ দেখে অনেক দর্শকেরই ইচ্ছে হয়েছে সেই জায়গাগুলো একবার নিজের চোখে দেখার। যদি আপনিও সেই দলে পড়েন, তাহলে চলুন আজ ঘুরে আসি পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গলমহলের বুকে, যেখানে ইতিহাস, প্রকৃতি আর সিনেমা মিশে তৈরি করেছে এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা।


ছবির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য শুট করা হয়েছে ঝাড়গ্রাম ও তার আশেপাশের অঞ্চলে। ঘন শাল-পিয়াল জঙ্গল, নির্জন রাস্তা এবং পুরনো রাজবাড়ির পরিবেশ ছবির রহস্যকে আরও জীবন্ত করে তুলেছে।পর্দায় যেসব দৃশ্য দেখে মনে হয়েছিল যেন কোনও অজানা গুপ্তধনের পথে এগিয়ে চলেছেন সোনাদা, আবির আর জিনিয়া, বাস্তবে সেই পথগুলো আজও পর্যটকদের কাছে সমান আকর্ষণীয়।


জঙ্গলমহলের অন্যতম আকর্ষণ ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি। রাজকীয় স্থাপত্য, বিশাল প্রাঙ্গণ এবং শতাব্দীপ্রাচীন ইতিহাস এই স্থানকে সিনেমার জন্য আদর্শ করে তুলেছে।রাজবাড়ির সামনে দাঁড়ালে মনে হবে যেন যে কোনও মুহূর্তে গুপ্তধনের সন্ধানে কেউ বেরিয়ে পড়বে। ছবির আবহকে বাস্তবে অনুভব করার জন্য এটি অবশ্যই দেখার মতো একটি জায়গা।


দুর্গেশগড়ের গুপ্তধনের রোমাঞ্চকর অংশগুলোর সঙ্গে জঙ্গলমহলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মিল খুঁজে পাওয়া যায় বেলপাহাড়ি ও কাঁকড়াঝোর অঞ্চলে।এখানকার পাহাড়ি রাস্তা, ঘন বন আর নীরব পরিবেশ সহজেই আপনাকে সিনেমার অভিযানের অংশ করে তুলবে। প্রকৃতিপ্রেমী ও ফটোগ্রাফারদের জন্যও এই অঞ্চল স্বর্গের মতো।

কলকাতা থেকে ট্রেন বা সড়কপথে সহজেই ঝাড়গ্রাম পৌঁছানো যায়। সেখান থেকে স্থানীয় গাড়ি ভাড়া করে রাজবাড়ি, বেলপাহাড়ি ও কাঁকড়াঝোর ঘুরে দেখা যায়।


মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সত্যজিৎ রায়ের সোনার কেল্লার রহস্য লুকিয়ে আছে বাংলাতেই!

শিবপ্রসাদ-আবীরের সেই রুদ্ধশ্বাস তাড়া করার দৃশ্য! জানুন ‘বহুরূপী’ সিনেমার আসল লোকেশন